নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আছে এমন একটি সরকারের অধীনে নির্বাচনের আগে রাজনীতির প্রতিটি গতিবিধির নানাবিধ অর্থ খোঁজা হয়। রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যাক্তিবর্গ, সরকারের সাথে জড়িত ব্যাক্তিবর্গ, সবার প্রতিটি বক্তব্যকে, তাদের প্রতিটি আচরণকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এমনই এক পরিস্থিতি বর্তমানে বাংলাদেশে বিরাজ করছে। এক্ষেত্রে বিগত বাইশ মাস সময়কালে সরকারের নানান অপকর্ম, অপচেষ্টা এবং কুমতির কারণে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে আছে। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিঃসন্দেহে একটি স্টেলমেটের রূপ নিয়ে আছে। দেশের বৃহত্তম দুটি রাজনৈতিক দলের একটি নির্বাচনের ব্যপারে সীমাহীন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, এবং অপরটি সরকারের চেয়েও উচ্চস্বরে বাকি দলগুলোকে নির্বাচনের অংশ নেয়ার আহবান জানাচ্ছে। আমাদের অতীত স্মৃতি বলে এ এক অতি অশুভ লক্ষণ। বাংলাদেশ এরকম একটি পরিস্থিতি দিয়ে এই প্রথম পার করছেনা। দেশের হবে হবে বলে বহু নির্বাচন হয়নি, আবার এমন বহু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার পূর্বে বর্তমানের অনুরূপ এক অবস্থা বিরাজ করছিল। নিকট অতীতে ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচনের কথা আলোচনায় আনা যায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ দোদূল্যমান অবস্থা, কার্যত নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান এবং উলটো দিকে বিএনপির নির্বাচন হবেই বলে ক্রমাগত হুংকার প্রদান নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সারা দেশ এবং সারা বিশ্বের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় সেই দুঃসহ স্টেলমেটের মধ্যেই অন্তর্নিহিত ছিল ওয়ান ইলেভেনের পটভূমিকা। ঐ বছরের ৭ই জানুয়ারি তারিখে একটি মামলায় এরশাদের অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনার পর আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনের বিরুদ্ধে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে, এবং স্বাভাবিক ভাবেই ২২শে জানুয়ারিতে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার কার্যকারিতা হত খুবই ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু তা হবার আগেই কিছু পরদেশী ক্রীড়নকদের দৌরাত্ম্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়া হয়। কিভাবে তা করা হয়েছে আজ আমরা সবাই অল্প বেশি জানি। ওয়ান ইলেভেন নামক গণতন্ত্র-বিতাড়নের সেই উদ্যোগের পরের ঘটনাবলী অনেক কালিমা যুক্ত এবং দেশের স্বার্থবিরোধী সব কান্ড কারখানার এক ভুতুড়ে ক্রনিক্ল। এই মুহুর্তে সেসবকে আমরা মূল বিষয়বস্তু না করি। নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ২০০৭ সালের প্রারম্ভভাগ এবং ২০০৮ সালের শেষভাগের তুলনা যদি করি, তবে এ দু সময়ের মাঝে বেশ কিছু মিল দৃশ্যতই রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করার জন্য খুব সূক্ষ্ম দৃষ্টি থাকবার প্রয়োজন পড়েনা। দুটি দলের একটির নির্বাচনের সাফাই গেয়ে আস্ফালন, অপরটির একান্ত দোদূল্যমান অবস্থা এবং নির্বাচনের ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অসম্মতি, নির্বাচন কমিশানের নির্লজ্জ পক্ষপাত, দেশের বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক বা অফিসিয়াল প্রধানের প্রায় নিষ্ক্রিয়তা, প্রায় ক্ষমতাহীনতা ও প্রায় নৈর্জীব্য, এ বিষয়গুলো উল্লিখিত দুই সময়ই পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে বলার অপেক্ষা রাখেনা বর্তমানের পরস্থিতি আরও অনেক অনেক বেশি জটিল। বর্তমানের অপ্রিয় সত্যগুলোও আগের চেয়ে অনেক বেশি নগ্ন বিজ্ঞজনেরা বলে থাকেন এই সরকারের উদ্দেশ্য বা অ্যাজেন্ডা পূর্বের সরকারগুলোর চাইতে অনেক বেশি গুরুতর ও ম্যালেফ্যাক্টরি।
উপদেষ্টাদের মুখে “এই রোদ এই বৃষ্টি” আরও নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং কিছু নতুন কৌতুহল প্রকাশের প্রয়াস জাগায়। প্রবাদবাক্যে রোদের মাঝে বৃষ্টিকে শিয়ালের বিয়ের মত একটি শুভ ঘটনার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যে উপদেষ্টা সবসময় সহাস্যে নিজে থেকেই বিবৃতি দেন লিখিত বক্তব্যের সাহায্য না নিয়ে, তিনি হঠাৎ গতকাল মুখ কালো করে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করলেন; তার মুখের সহাস্য অবস্থার মাঝে হঠাৎ মেঘ কোন শুভ অবস্থার কথা জানান দেয় না বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে ঘটতে থাকা প্রচন্ড অশুভ এবং ভুতুড়ে অবস্থার কথা জানান দেয়। খন্দকার দেলোয়ার হোসেন উপদেষ্টার ঐ বিবৃতি দানের ঠিক পরই একটি মন্তব্য করেছেন যে উপদেষ্টার এসকল কথাবার্তা এবং কথা বলার ধরণ সম্পূর্ণ রূপে বিভ্রান্তিমূলক। তিনি হয়তো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এরূপ মন্তব্য করেছেন, কিন্তু হোসেন জিল্লুর রহমানের এরূপ বিবৃতি নির্বাচনের জন্যে অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষমান প্রতিটি মানুষের জন্য বিভ্রান্তিকর। একটি অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের একজন ঊর্দ্ধতন মুখপাত্রের এরূপ বক্তব্য এই আশংকাকে প্রতিনিয়ত উষ্কে দেয় যে প্রকৃতপক্ষেই দেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে না।
নির্বাচন পূর্ব রাজনৈতিক আলামতগুলোকে যাচাই করলে দেশে চলমান একটি পরিস্থিতির কথা জানা যায়, যেখান নূন্যতম বোধশক্তির অধিকারী একজন মানুষও উপলব্ধি করবেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন পূর্ব সবধরণের সুবিধাজনক অবস্থা ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই দলটির প্রধান নেত্রী দীর্ঘকাল যাবত স্বাধীন ও মুক্তভাবে চলাফেরার সুযোগ লাভ করেছেন এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে অবস্থান করে সব রকমের সামাজিকতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তওফিক সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে লাভ করেছেন। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করি। দেশের অতি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের এই প্রধান নেত্রী উচ্চতর ও গুরুতর চিকিৎসা লাভের ফাঁকে ফাঁকে যখন নানান সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশে যোগদান করেছেন তখন দেশের অপর অতি বৃহত্তর দলটির প্রধান নেত্রী নিজের অসুস্থ দুই ছেলের কথা ভেবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছিলেন। তৎকালীন বন্দী এই নেত্রীর সাথে তার দল ও জোটের দুই নেতা কারাগারে বৈঠক করার ঘটনায় যখন দেশের বহু সচেতন মানুষ চমকে আর দমকে মুর্ছা যাচ্ছিলেন, তখন তারা একথা মনে রাখেননি যে সেই নেত্রীর কারাগারের কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নির্বাচন কমিশানের সহায়তয়ায় তার দলে কিছু বিপথগামী নেতা তার দলটিকে ছিনতাই প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু এটি ছিল তার দলের পরম সৌভাগ্য এবং দলের অপর কিছু নেতাদের সীমাহীন দূরদর্শীতা যাদের কারণে ছিনতাই পর্ব সম্পন্ন হয় নাই। কিন্তু এই ছিনতাই পর্ব সফল করতে সরকারের এমন কোন বিভাগ নেই যাকে ব্যাবহার করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিম্ন আদালত, অ্যাপিলেট বিভাগ, প্রত্যেকটি ব্যুরোক্র্যাটিক এবং জুডিশিয়াল অস্ত্র ব্যাবহৃত হয়েছে। ২০০৭ সালের ২৯শে অক্টোবার তারিখ গভীর রাত্রীতে গুলশানের জালালাবাদ হাউজে আমরা কিছু অপরিচিত ও অনাকাংখিত ব্যাক্তির উপস্থিতির কথা জানতে পাই, অর্থাৎ সেই বিশেষ অস্ত্রটিও এক্ষেত্রে ব্যবহারের হাত থেকে মুক্তি পায়নি। একটি রাজনৈতিক দল যখন এত ঝড় ঝঞ্ঝার মাঝে দিনযাপন করছে, তখন অপর সেই দলটি তুলনামূলক ভাবে হাওয়াই দ্বীপে রৌদ্রস্নানে ব্যাস্ত। পূর্বের সেসব আশ্চর্য ঘটনাবলী প্রত্যেকটিকে প্রয়োজন মত স্মরণে আনলে দেখা যায় ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারির পর বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যকারিতা লাভ করেছে এই বছরের ১১ই সেপ্টেম্বার বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবার পর। মাঝের বিশ মাস সময়ে একটি মুহুর্তের জন্যও দলটি কোন রাজনৈতিক কর্মাকান্ড সম্পাদন করতে পারেনি। গত বছরের ৯ই নভেম্বার যখন ঘরোয়া রাজনীতির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়, তখন বঙ্গবন্ধু এভিনিয়্যু আওয়ামী লীগ কর্মীদের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠলেও ২৮/১ নয়া পল্টন রয়ে যায় রায়ট পুলিশের ঘেরাওয়ের ভেতর, বিএনপি অফিস ছিল তালাবদ্ধ। পরে ১৩ই ডিসেম্বার যখন সেই তালা খোলা হয়, তখন দলের প্রধান কার্যালয়ের দপ্তর সম্পাদক রিজভী আহমেদ সেখানে হয়ে পড়েন অবাঞ্ছিত, বিএনপি হেড অফিস দখল করে নেই দলের বিভাজনবাদীরা। মাত্র ছ’দিন আগে জিয়ার মাজার প্রাঙ্গনে দলের এক কর্মীর কাছে পাদুকাপ্রহৃত হওয়ার পরও সেই বিভাজনবাদী বিপথগামীরা দলটির উপর আঘাত হানা বন্ধ করার কথা ভাবেনি। অপরদিকে অন্যদলটি থেকে যায় এ জাতীয় সকল বাহ্যিক আঘাতে ঊর্দ্ধে। তার মানে এই নয় যে সেই দলটির উপর আঘাত আসা উচিত ছিল। কারও উপরই আঘাত আসা উচিত ছিলনা। কিন্তু বিএনপির উপর এসেছে, উচিত না হওয়া সত্ত্বেও। বিগত বিশ মাস সময়ের মাঝে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার সাথে বিএনপির তৎপরতার কোন তুলনাই চলেনা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের পরিকল্পনাটি একটি ভালো উদ্যোগ, যদিও চট্টগ্রামে সেই উদ্যোগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাও সর্বোপরি এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আর এই উদ্যোগটি তাদের পক্ষে নেয়া সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র এই কারণে যে গত বিশ মাস তাদের দল কোন বাহ্যিক আঘাতে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়নি। কিন্তু বিএনপির পক্ষে চাইলেই এরূপ একটি উদ্যোগ নেয়া এই মুহুর্তে সম্পূর্ণ অসম্ভব কেননা এই দলটি গত বিশ মাস কার্যত নিষ্ক্রিয় পড়ে ছিল। এবছরের মার্চ থেকে দলের ভেতর সংস্কারবাদ নামক জীবাণূটির দৌরাত্ম্য সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ অনুভূত হলেও, অপর অর্থাৎ কার্যকর এবং সর্বজন সমর্থিত অংশটির কার্যক্রম নির্বাচনে অংশ নেয়ার মত কোন সাংগঠনিক উদ্যোগে যেতে পারেনি, কেননা দলে চেয়ারপার্সনের ও চেয়ারপার্সনের কার্যকারিতার অনুপস্থিতি, এবং সার্বিক ভাবে বিশ্বাসঘাতকদের দৌরাত্ম্যে এক ধরণের দোটানা দেখা দিয়েছিল। এক্ষেত্রে তর্কের খাতিরে দল হিসেবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের তুলনাটিকে আনা যায়, এবং এর জবাব অবশ্যই রয়েছে। যেভাবে এই দলটির উপর সরকারী অন্যায় ও অবিচার করা হয়েছে, তাতে দলটির ভেতর গণতন্ত্র আছে কি নেই, তা দলটিকে ভাঙ্গার চেষ্টা করার সময় মনে করা হয়নি। এই মুহুর্তে দলের সিনিয়ার নেতারা নানান সমাবেশে ব্যক্ত করে থাকেন তারা নির্বাচনের জন্যও তৈরি এবং আন্দোলনের জন্যই তৈরি। আমি মনে করি এই বক্তব্য বাস্তবসম্মত নয়। বিএনপি ১৮ই ডিসেম্বারের নির্বাচনের জন্য তৈরি নয়। হয়তোবা বিএনপির শরিকরা তৈরি থাকতে পারেন, তবে দল হিসেবে বিএনপির নির্বাচন প্রস্তুতি মোটেই বলার মত কিছু নয়। আর এটিই যে তাদের নির্বাচনে যাবার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার একমাত্র কারণ তা নয়। অপরদিকে আওয়মী লীগের সরকারী দলের মত আচরণ সকলের জন্যই উদ্বেগজনক। একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘকাল ক্ষমতায় না থেকেও আসন্ন একটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বাকি দলগুলোকে আহবান জানাচ্ছে, এ বোধ হয় কয়েকশত বছরের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন। নজির থাকুক বা নাই থাকুক, এই ঘটনা দেশের কোন মানুষের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যার উদ্ভব না ঘটিয়েছে বিএনপি না ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান এই স্টেলমেটের জন্মদাতা বর্তমান সরকার স্বয়ং এবং এ থেকে মুক্তির পথ না পেয়ে দেশ যে আজ এক ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঙ্গী করে অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে, তার দায়িত্ম আর কারও নয় এই সরকারের। অনেকে বলেন আমরা আবার দুই বছর আগের সেই ডেড্লকে ফিরে গেছি। বিজ্ঞজনেরা বলেন পরিস্থিতি হয়তোবা দুই বছর আগের ডেড্লকের অনুরূপ, কিন্তু আমরা পিছিয়েছি আরো অনেক বেশি। এ এক যথার্থ সত্যি কথা।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় এনে নিজেদের অবস্থা নিরুপণ করার পথে বিএনপির কোন বাধা নেই। আর এই মুহুর্তে সেই কাজটি করা ছাড়া বিএনপির সামনে এগুবার আর কোন পথও নেই। একটি প্রতিকূল অবস্থায় নির্বাচন করার জন্য জোট বা দলের অবস্থান কতটা ঠিকঠাক আছে, তার অনুসন্ধান দলকে করতে হবে নিজেদের মাধ্যমেই, নিজেদের এবং দেশের কোটি কোটি মানুষের কথা ভেবে। নির্বাচন কমিশনকে তারা যে সাতটি দফা দিয়েছে, পরিস্থিতি সেই সাতটি দফা পূনর্বিবেচনার দাবি রাখে। সেই সাতটি দফার মাঝে রয়েছে কয়েকটি অতি গুরুতর এবং ভাইটাল ইস্যু, এবং বাকি কয়েকটি দফা রয়েছে যেগুলোকে দর কষাকষির উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করতে এই পরিস্থিতিতে কুন্ঠাবোধ করার কিছু নেই। জরুরী আদেশ প্রত্যাহার সহ গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের স্বৈরাচারী সংশোধনের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান অন্যান্য সব সময়ের চেয়ে শক্ততর করে তুলে ধরার চূড়ান্ত সময়ে এখনই। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকেও শক্ত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। যেখানে প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই এই দাবিগুলো ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল, সেখানে একটি দলের গতিবিধি যেকোন দেশের কোন সরকারী অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সহ চারদলীয় জোটের কাছে এই মৌলিক দাবিগুলো অত্যন্ত কঠোর ভাবে তুলে ধরা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই। এসকল দাবির দৃঢ়তার বিপরীতে বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার কি প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা থেকেই দেশের মানুষের উপলব্ধি আসবে যে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবার সম্ভাবনা যে কতটা ক্ষীন। এসকল বক্তব্য সুপ্রচারিত ভাবে এবং শক্ত ভাবে তুলে ধরার পর অন্যান্য দলের গতিবিধিতে যে পরিবর্তন ও দুশ্চিন্তা স্থান নিবে, তা থেকেই দেশের মানুষ স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারবে যে কোন দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আর কোনটি দীর্ঘদিনের ক্ষমতাহীনতা ঘোচাতে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী।




