x a n t h i s

Made in Bangladesh

মন্ত্রীরা তাও বলবেন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো?

Posted by xanthis on April 29, 2011

২৯ এপ্রিল তারিখে বাংলাদেশ ফার্স্টে প্রকাশিত

http://starazzobd.files.wordpress.com/2011/04/sahara-khatun-450px.jpg?w=450&h=256

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন

গত বছরের শেষে একটি লেখায় গণধোলাইয়ের পুনর্বিস্তার প্রসঙ্গে আশংকা প্রকাশ করেছিলাম। হতে পারে কাকতালীয়, তবে ২০১০-এর নভেম্বার-ডিসেম্বারে সারা দেশে গণধোলাইয়ে অপরাধী বা অভিযুক্তের মৃত্যুর এতগুলো ঘটনা ঘটেছিল যে আশংকা প্রকাশ না করে উপায় ছিল না।

সম্প্রতি কক্সবাজারে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে ডাকাত হিসেবে অভিযুক্ত ১০ ব্যাক্তি। ডাকাতির বেশ বড় আয়োজনের জবাবে এলাকাবাসী আর পুলিশের আক্রমণ যৌথ ভাবে হলেও শেষমেষ সংঘর্ষটি ত্রিমুখী হয়ে পড়ে, যার শিকার ঐ দশজন ছাড়াও হয়েছে গ্রামের একটি নিরীহ যুবক। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী, অর্ধশতাধিক পুলিশ।

পত্রিকার ভেতরের পাতায় ছাপা হওয়া বিশ্লেষণগুলো বাদ দিলে, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় মূলত দুই ধরণের খবর চোখে পড়ে। প্রথম ধরণটি মৌলিক, এতে শুধু রয়েছে সারা দেশে ঘটা রোমহর্ষক সব অপরাধের ঘটনা। এর বিশ্লেষণ বা উদাহরণে যাব না, কারণ লক্ষ্য করেছি নৃশংসতার খবর পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে প্রথম পাতাতে আসলেও বিভিন্ন বয়সের অনেকেই সেসব পড়তে বা এ সংক্রান্ত ছবি দেখতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। ইদানিং অবশ্য দেখি কয়েকটি পত্রিকা, যেগুলো কয়েক বছর আগেও অপরাধের বিস্তারের খবরগুলোকে প্রাধান্য দিতে, তারা এখন আর সেসব খবরকে সর্বাগ্রে তুলে ধরার আগ্রহ বোধ করে না। কেন কে জানে।

দ্বিতীয় যে ধরণের খবর আসে, সেগুলোই মূলত হচ্ছে নৈরাশ্যজনক এবং ক্ষতিকারক। এ খবরগুলোতে থাকে আমাদের মন্ত্রী ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতনদের বক্তব্য, যারা বিভিন্ন সভা-সমিতিতে অংশ নিয়ে নিরন্তর বলে যান দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ওমুক বছরের চেয়ে ভালো, তমুক আমলের তুলনায় মানুষ কম মরছে ইত্যাদি।

এসব দায়িত্মজ্ঞানহীন বক্তব্যের প্রচুর নিন্দা পথেঘাটে হয়ে থাকে। ঢালাও নিন্দায় তা যাচ্ছি না। কয়েকটি ফলাফল ও পরিণতির কথা বলতে চাই।

দেশের সাধারণ মানুষ জানেন আর না-ই জানেন, কিংবা যা-ই জানেন, সরকার নিয়ন্ত্রিত যে কয়েকটি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা তুলনামূলক ভাবে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম ও ঝুঁকির কাজ করেন, তার মাঝে অন্যতম হচ্ছে আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী, অর্থাৎ পুলিশ ও র‌্যাব। অপরাধ বিষয়ক অনেক সিনেমা-নাটক আমরা দেখি। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী একাধিক উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে অপরাধ জগত। আমাদের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী কাঠামোয় প্রতিনিয়তি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে যেসব অপরাধের রহস্য উদঘাটিত হয়, তার প্রক্রিয়া নিয়ে সেরকম অনেক সিনেমা, নাটক ও উপন্যাস তৈরি করা সম্ভব।

পুলিশ ও র‌্যাবকে কাজের পুরো প্রক্রিয়াটিই ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের শত্রু মানেই হচ্ছে অস্ত্রধারী ভয়ংকর অপরাধী। র‌্যাব-পুলিশকে প্রতিনিয়ত এই অপরাধীদের মুখোমুখি হতে হয়। অপরাধের খবর পেতে ও অপরাধীকে ধরতে তাদেরকে বিপজ্জনক জগতে প্রবেশ করতে হয়, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে যোগাযোগ করতে হয় বিপজ্জনক মানুষদের সাথে। সেখানে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে প্রয়োগ করতে হয় নানান কৌশল, চাতুর্য ও বুদ্ধিমত্তা। পত্রিকায় অপরাধের খবরগুলো আসে এবং এটা স্বাভাবিক যে পুলিশ এগুলোকে সংঘটিত হওয়া থেকে আটকাতে পারেনি বলেই অপরাধগুলো হয়েছে। কিন্তু কত শত-হাজার অপরাধ সংঘটন যে তারা প্রতিদিন প্রতিরোধ করছে, তা আমরা জানি না, কেননা তার অনেকটুকুই পত্রিকায় ছাপা হয় না। কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া হয়তো কেউ জানেনই না অনেক ঘটনার ব্যাপারে।

প্রচন্ড ঝুঁকির মাঝে সরকারী দায়িত্ম পালনের ফলে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাদের জীবনযাত্রাকেও ঝামেলামুক্ত রাখতে পারেন না। তীব্র মানসিক পরিশ্রমের খুব সুস্পষ্ট প্রভাব পড়ে তাদের পরিবারের উপরেও। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ে যারা নিয়োগ পান, তারা আর দশটি সাধারণ পরিবার থেকেই এসেছেন। বিভিন্ন পরীক্ষায় পাস করে তারা বাহিনীতে যোগ দেন। কিন্তু যোগ দেয়ার পর সেই জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক বলার আর কোন সুযোগ থাকে না। আর দায়িত্ম পালন করতে গিয়ে ঝুটঝামেলার শিকার হওয়া তো আছেই। কক্সবাজারের ঐ ঘটনাতেই আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ, যার মধ্যে ২৬ জন ডাকাতদের এলোপাতাড়ি ফায়ারিং-এর ফলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা ও অন্যান্য কারণে সরকারের প্রতি তীব্র জনবিক্ষোভের প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলান পুলিশ সদস্যরা। যেমন মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ জলাভূমি অধিগ্রহণ করে বিমানবন্দর নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গ্রহণ করেছিল, তার দ্বারা ক্ষুদ্ধ মুন্সীগঞ্জবাসীর প্রায় পুরোটা রাগই মিটেছিল পুলিশের উপর। স্থানীয় থানার একজন উপপরিদর্শক গণধোলাইয়ে মারা যান, আহত হন প্রায় দুইশতাধিক পুলিশ, যাদের কেউ কেউ এখনও রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যেসব কষ্টসাধনের কথা বলা হল, তার জবাবে বিতর্কে উৎসাহী কেউ এ কথা বলতে পারেন যে তারা সুবিধাও পাচ্ছে অনেক। কর্মকর্তারা পরিবারসহ সরকারী বাসভবনে থাকতে পারছেন, সাধারণ সদস্যদের জন্যও রয়েছে ব্যারাক। এ সকল সুবিধা সত্ত্বেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যে তাদের নিজেদের কর্মক্ষমতার বেশি শ্রম দিতে হয়, সে বিষয়ে কোন তর্ক চলে না। এই সেদিনও দেখলাম রাজারবাগ পুলিশ লাইনে মহিলা পুলিশদের হোস্টেলের একটি পুরো ফ্লোরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। এমনিতেই লোডশেডিং-এর যন্ত্রণায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন, তার উপর সেখানে বিদ্যুৎ থেকেও নেই। সেই হোস্টেলের বাসিন্দা মহিলা পুলিশ সদস্যরা নিশ্চয়ই আরামে দিন কাটান না। পরিশ্রমের ডিউটির পর নির্দ্দিষ্ট সময়ে অপ্রতুল বিশ্রামের জন্য যে হোস্টেলে তারা ফিরে আসেন, সেখানেও তারা শান্তি পাচ্ছেন না।

এই পরিস্থিতিতে, অপরাধ হচ্ছে না বা আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো, এসব বক্তব্য দিয়ে আমাদের মন্ত্রীরা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিশ্রমী সদস্যদেরই অবমাননা করেন। দেশের মানুষ যখন দেখে মহামারীর আকারে সর্বত্র খুন-খারাপি হচ্ছে, তখন মন্ত্রীদের এসব বক্তব্যের ফলে মানুষের ক্ষোভ শুধু মন্ত্রীদের উপর নয়, পুরো ব্যবস্থার উপর গিয়ে জমা হয়, যার ফল মন্ত্রীদের চেয়ে ঐ সদস্যদেরকেই বেশি ভোগ করতে হয়। কেননা মন্ত্রীদের এসব পাতি বক্তব্যের ফলে মানুষ আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর আস্থা হারায়, যার ফলে ওসব গণধোলাইয়ের ঘটনা বেড়ে যায়। এমন কি ক্রসফায়ারে হত্যাকান্ড ঘটলেও তাতে বাহবা দেয়ার লোকের অভাব হয় না, কেননা তাদের উপায় নেই।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী গত মার্চ মাসে একটি সভায় বক্তৃতার সময়ে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, যে বাড়ির লোক খুন হয়েছে সে বাড়িতে গিয়ে এনারা বলেন দেশে নাকি অপরাধ নাই। মানসিক সুস্থতার ব্যাপারটিতে কোন মতামত বা সমর্থন জানাতে যাব না, কেননা এটি নির্ধারণ করবেন ডাক্তাররা, যা কাদের সিদ্দিকী নন বা নই আমিও। তবে এটা বুঝতে পারি যে মন্ত্রীদের ঐসব কথাবার্তা স্বাভাবিক নয়। কেউ কেউ বলেন, এসব হচ্ছে রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনৈতিক বক্তব্য মানে কি? যে বাড়ির লোক খুন হয়, সে বাড়িতে গিয়ে অপরাধ নেই দাবী করার মানে তো মিথ্যাচার। রাজনৈতিক বক্তব্য মানে কি শুধুই মিথ্যাচার?

সেদিন কয়েকজন সাংবাদিক হালকা মেজাজে একজন আরেকজনকে বলছিলেন, পত্রিকায় যেসব জনমত জরিপ হয়, সেখানে একদিনন ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীর ক্রসফায়ারে মৃত্যু বা গ্রামবাসীর হাতে গণধোলাইয়ে ডাকাতের মৃত্যু সমর্থন করেন কি’, এ জাতীয় প্রশ্ন রেখে দেখা যেতে পারে। কোন সন্দেহ নাই যে ফলাফল দেখে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চোখ কপালে উঠবে।

কথাটি ভুল নয়। চিহ্নিত সন্ত্রাসীর ক্রসফায়ারে মৃত্যু হলে প্রকৃতপক্ষেই সেই সন্ত্রাসীর বিচরণক্ষেত্র এলাকার বাসিন্দারা মোটেই কোন আক্ষেপ করেন না, বরং ক্রসফায়ারকে বাহবা দেন। গ্রামবাসীর হাতে ডাকাতে মৃত্যুর ক্ষেত্রেও বাস্তবতা অনুরূপ। কক্সবাজারে রবিবারের ঐ ঘটনায় গ্রামবাসী ডাকাতদের মেরেছে সারা দিন ব্যাপী। প্রথম দফায় দু’জনকে পেয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। বাকিরা পালিয়ে গিয়েছিল পাহাড়ের দিকে। গ্রামবাসী রীতিমত সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে সে পাহাড়কে প্রথম ঘেরাও করেছে, তারপর একেক দফায় অভিযান চালিয়ে দুই দফায় ৪ জন করে আরও ৮ জনকে মেরেছে। দিনশেষে তাদের হাতে নিহত ডাকাতদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। এরকম কেন হল? হয়েছে কারণ আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর থেকে মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।

আস্থার এই বিলুপ্তির কারণ শুধু বাহিনীর ব্যর্থতা নয়। এর জন্য মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতনদের দায়িত্মজ্ঞানহীনতাও দায়ী। যখন দেখা যায় ১৯৯৯ সালের মালিবাগ হত্যাকান্ড ও যুবলীগ নেতা ইব্রাহীম হত্যাকান্ড থেকে অপর যুবলীগ নেতা ও এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোজবাজির মত অব্যাহতি পেয়ে যান, নাটোরে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত ১৯ আসামী খালাস পাওয়া মাত্র ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাদেরকে উজ্জ্বলবর্ণ গাঁদাফুলের মালা পড়িয়ে বরণ করেন, তখন মানুষের মনে হয় অপরাধীকে হাতে পেলে আর ছাড়াছাড়ি নেই। এর ফলে বিচার ব্যবস্থা ঘটনার নাগাল পাবার আগেই শেষ হয়ে যায় অনেক মানুষের প্রাণ, যাদের সংশ্লিষ্টতা বা দায়িত্ম আদৌ কদ্দূর ছিল, তা আর জানা যায় না।

দুঃখের সাথে বলতে হয়, বড় দায়িত্ম পাবার পর আমাদের কর্তাব্যাক্তিরা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হতে থাকেন বলেই ওভাবে বলতে পারেন। এখনকার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে একটি বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা যখন মাইক্রোফোনের সামনে বলেন যে আইন-শৃংখলার অবস্থা ভালো, তখন তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কনিষ্ঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সাথে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে তারা কতটা একমত।

লিমনের প্রসঙ্গ দিয়ে শেষ করব। এই লিমনের ঘটনাটি মিডিয়ার মনযোগ পেয়েছে। কিন্তু মনযোগ পায়নি এমন দুটো ঘটনাও এর আগে ঘটেছে। একটির শিকার ছিল তরুণ মডেল কায়সার মাহমুদ বাপ্পি, আরেকটির শিকার ছিল অ্যাপোলো হসপিটালের তরুণ কর্মী মহিউদ্দীন আরিফ। বাপ্পি মারা গিয়েছে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে। আর আরিফ মারা গিয়েছে র‌্যাব সদস্যদের নির্যাতনে। লিমনের ঘটনাটি এখনও পরিণতির অপেক্ষায় আছে। তবে বাকি দুটো ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তই বলছে র‌্যাব সদস্যরা দোষী।

তিনটি ক্ষেত্রেই র‌্যাব বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সদস্যদের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে। এই সাফাই গাওয়া বন্ধ হোক। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রই হচ্ছে ভালো ও মন্দের সংমিশ্রণ। ভাবার কোন কারণ নাই যে পুলিশ বা র‌্যাবে কোন মন্দ থাকবে না। সেই মন্দরা থাকবে, তারা অপকর্ম করবে। সবগুলো অভিযোগকে আমরা অপকর্ম হিসেবেই বা ধরব কেন? দক্ষ লোকদেরও কি তো ভুল হতে পারে না? এটা অনাকাংখিত ঠিকই, কিন্তু অবাস্তব বা অসম্ভব নয়। এই মন্দদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না। অতএব প্রত্যেকটি বাহিনীতে দুষ্টুকর্ম সাধনকারীদেরকে চিহ্নিত করে তাদের কৃতকর্মকে তদন্তের আওতায় আনা হোক। একটি বা দুটি মানুষের ভুলকে কোন কর্মকর্তা অস্বীকার করলে তার পুরো বাহিনীটি কলংকিত হয়। সেই বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা কমে এবং এতে কাজ করতে থাকা সৎ ও পরিশ্রমী কর্মীদের মর্যাদা হানি হয়। সাধারণ মানুষের মাঝে র‌্যাবের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা অবশিষ্ট আছে। লিমনের ঘটনার সুষ্ঠু সুরাহা না হলে এমন ঘটনা আরও ঘটবে, যার ফলে র‌্যাবের গ্রহণযোগ্যতা কমবে, আর সেটা যে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির জন্য কত ভয়াবহ একটা সংকেত হয়ে দাঁড়াবে, তা আমাদের কেউ কেউ হয়তো উপলব্ধি করছি না।

Posted in Bangladesh | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , , | 1 Comment »

মাদ্রাসা ছাত্রদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন সুজনেরা হাসনাতের ব্যাপারে কী ভাবছেন?

Posted by Mohammed Tawsif Salam on April 26, 2011

http://shatil.files.wordpress.com/2011/04/mufti-amini-and-maulana-abul-hasnat.jpg?w=505&h=338

হরতালে একপক্ষ বা দুটো পক্ষের জন্য না হলেও, গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির হরতালটিতে সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কয়েকটি চমক ছিল। হরতালের আহবানকারী দল বা গোষ্ঠী দেশের প্রধান দুটো দলের একটি না হলেও (একটির সাথে জোটবদ্ধ), হরতাল দেখে অনেক ক্ষেত্রেই তা বোঝার উপায় ছিল না।

হরতাল হয়ে যাবার পর স্বাভাবিক ভাবে যা হয়- সরকার দাবী করেছে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছিল, হরতাল পালনকারীরা দাবী করেছে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। কিন্তু দেশের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলো হরতালের সফলতা-ব্যার্থতার পাশাপাশি একটি ভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। ভিন্ন বিষয়টি ছিল- মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের হরতালের পক্ষে পথে নামতে বাধ্য করা।

প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক, উভয় মিডিয়াতেই হরতালের বেশ কয়েকটি দৃশ্যপট তুলে এনে সেখানে কিশোরদের উপস্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট করে দেখাবার চেষ্টা করা হয়। একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল আটককৃত কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রের বক্তব্যও প্রচার করে, যেখানে তারা বলছে যে শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে পথে নামিয়েছে।

যেকোন ধরণের সাধারণ কর্মসূচী, সেটি রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক, আন্দোলনভিত্তিক বা সংবর্ধনামূলক যাই হোক না কেন, শুধু শিশুদেরই নয়, কাউকেই সেখানে যোগ দিতে বাধ্য করার বিষয়টিকে সমর্থন করা যায় না। সব সরকারের আমলেই কোন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী বা রাজনীতিকের আগমন উপলক্ষে স্কুল কলেজের শতশত ছাত্রছাত্রীকে রোদ-বৃষ্টির মাঝে রাস্তার দু’ধারে দাঁড় করিয়ে রাখার সংস্কৃতিটি দেখা যায়, যা খুবই দরিদ্র মানসিকতার পরিচায়ক।

এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতিতে জড়িত বৃহত্তর ব্যাক্তিবর্গের মানসিক গঠনের একটি আভাস পাওয়া যেতে পারে। যদিও কোন মন্ত্রী নিশ্চয়ই ফোন করে বলেন না যে আমি আসব, হাজার হাজার ছেলেমেয়ে জোগাড় কর, সাধারণত অতি উৎসাহী সরকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনীতিকদের উদ্যোগেই এ কাজগুলো হয়ে থাকে, তবুও মূল উপলক্ষ ব্যাক্তিটি, তিনি কোন মন্ত্রী কিংবা আমিনী যেই হোন না কেন, দায়িত্ম এড়াতে পারেন না। তিনি যদি নিজে উদ্যোগ নিয়ে সেই শিশুসমাগম না থামান, তবে বুঝতে হবে মুখ ফুটে না বললেও তিনি বিষয়টি সমর্থন করছেন, যা দুঃখজনক।

মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে লাঠি তুলতে বাধ্য করার ফলে যারা ব্যাথিত হয়েছেন ও এর প্রমাণ দেখাবার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন, তারা গণমাধ্যমের দায়িত্মশীল অংশবিশেষ, সন্দেহ নেই।

কিন্তু বাংলাদেশে, এটা কি শুধু ইদানিংই ঘটছে নাকি আগে থেকেই ছিল স্পষ্ট করে বলতে পারছি না, একটা খুবই ন্যাক্কারজনক ব্যাপার হল, কোন বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হব আর কোন বিষয়ে হব না, এই বিষয়গুলো নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা অতি সূক্ষ্ম বাঁছবিচারের আশ্রয় নেই। যেমন, জোরপূর্বক শিশুসমাগম যাকে ব্যাথিত করেছে, অন্তত যে গণমাধ্যমগুলো এ ব্যাপারে সরব হয়েছে, তাদের কর্মকান্ডের উপর গভীর মনোনিবেশ করে দেখা গেল, ঐ কর্মসূচীর সাথে সম্পৃক্ত একজন ব্যাক্তি, মাওলানা ফজলুল হক আমিনী, তার একটি জলজ্যান্ত পুত্রসন্তান, নাম মাওলানা হাসনাত, হরতালের কয়েকদিন পরেই সে গায়েব হয়ে গেল কিন্তু সেই গণমাধ্যমগুলো এই প্রসঙ্গে কোন বিশ্লেষণের ধারই ধারছে না।’

এ মাসের ১০ তারিখ গত রোববার, ব্যবহার্য গাড়ি মেরামতের উদ্দেশ্যে আমিনীপুত্র মাওলানা হাসনাত দু’জন সহযোগীকে নিয়ে ধোলাইখালে যান। বেলা এগারোটার দিকে তারা টিপু সুলতান রোডে দিল্লী সুইটমিটস নামক দোকানে দাঁড়িয়ে হালকা খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময়ে একটি মাইক্রোবাস দোকানের সামনে এসে থামলে তা থেকে অন্তত ছয়জন সশস্ত্র ব্যাক্তি নেমে এসে মাওলানা হাসনাতের কাছে নিজেদেরকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক বলে পরিচয় দেন এবং তাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময়ে সঙ্গে থাকা দু’জন হাসনাতকে কোথায় ও কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো কেড়ে নেয়া হয় এবং সশস্ত্র ব্যাক্তিবর্গ মাইক্রোবাসে করে মাওলানা হাসনাতকে নিয়ে স্থানত্যাগ করেন।

ঘটনার ১২ দিন পর গত ২৩ এপ্রিল শনিবার মাওলানা হাসনাতকে রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের পাশ থেকে হাত, মুখ ও চোখ বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। ভোরে ঐ অঞ্চলের স্থানীয়রা তাকে দেখে তার হাত, মুখ ও চোখ খুলে দিলে তিনি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। উল্লেখ্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অন্তর্ধানের মুহুর্ত থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। মুক্ত হওয়ার পর নিজের ক্যাপ্টরদের সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট ভাবে কিছু জানাতে পারেননি, কেননা আটকের পর থেকেই তার চোখ বাঁধা ছিল। তবে ক্যাপ্টরদের সাথে তার কথাবার্তা হয়েছে। ক্যাপ্টররাই বলেছেন বেশি। বারবার বলা হয়েছে যেন তার বাবা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচী বর্জন করেন। আন্দোলন থেকে সরে না দাঁড়ালে মেরে ফেলার ভয়ও দেখানো হয়।

হাসনাত জানিয়েছেন তিনি নিশ্চিত তার ক্যাপ্টররা ছিল সরকারের কোন বাহিনীর লোক। এর পালটা বক্তব্যও আছে অবশ্য। হাসনাতের অন্তর্ধানের পর যখন তার পরিবার সহ বহু মানুষ ও সংগঠন দাবী করছিল অতীতের একাধিক ঘটনার মত হাসনাতকেও এই সরকারই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে গুম করেছে, তখন ঢাকায় আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত একাধিক বাহিনীর কর্তাব্যাক্তিরা বিষয়টি মুহুর্মুহ অস্বীকার করেছেন।

বর্তমান সরকার দায়িত্ম গ্রহণের পর জলজ্যান্ত মানুষের গায়েব যাওয়ার ঘটনা এটা প্রথম তো নয়ই, এটা যে আসলে কততম ঘটনা তা নিরূপণ করা এই পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন। তবে আলোচিত ঘটনাগুলোর মাঝে রয়েছে ঢাকার নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলার ও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম অন্তর্ধান রহস্য। এই চৌধুরী আলমকে গত বছর বিএনপির ডাকা একটি হরতালের আগের দিন রাজধানীর বেইলী রোড থেকে একই ভাবে মাইক্রোবাস যোগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারও কোন খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। সরকারের হাতে আটক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরী জানান যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে তারও চৌধুরী আলমের মত পরিণতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। ঐ জিজ্ঞাসাবাদে চৌধুরী আলমের পরিণতি সম্পর্কে তাকে জানানো হয়, হত্যার পর পেট কেটে নাড়িভুড়ি বের করে তাকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর সাক্ষাতকালে সালাহউদ্দীন তার আইনজীবি, সাংবাদিক ও আত্মীয়স্বজনদের এই তথ্য দেন।

আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় বাঁছাবিচার প্রসঙ্গে যা বলছিলাম, জলজ্যান্ত এই মানুষগুলো উধাও হয়ে যাচ্ছে, আলোচিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে তাদেরকে পাওয়াই যাচ্ছে না, অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত ঘটনাগুলোতে তাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে তুরাগ নদীর পাড়ে বালিতে পোতা অবস্থায় কিংবা নারায়ণগঞ্জের কোন এক ডোবায় হাত পেছনে বাঁধা ও গলা কাটা অবস্থায় আর হাসনাতের মত কতিপয় অত্যন্ত সৌভাগ্যবানদের হাত, মুখ, চোখ বাঁধা অবস্থায় এখানে সেখানে ফেলে যাওয়া হচ্ছে, এই ঘটনাগুলো ঐ সংবাদমাধ্যমগুলোতে কর্মরতদের ছুঁয়ে যাচ্ছে না, তা হতে পারে না। সেসব সংবাদমাধ্যম, সেগুলোর রাজনৈতিক বিশ্বাস বা নীতিমালা যাই হোক না কেন, সেখানে তো আর নিশ্চয়ই কসাই ধরে এনে কলম মাইক্রোফোন হাতে ধরিয়ে বসিয়ে দেয়া হয় নি, অতএব যা ঘটছে সেগুলো তাদেরকে স্পর্শ করছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের জেনেও না জানা কারণে তারা সেগুলো নিয়ে কিছু বলছেন না, বা অন্যান্য অনেক কিছু বলে সেগুলো ধামাচাপা দিতে চাইছেন।

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠক-দর্শক-অনুরাগী জুটিয়ে নেবার পর সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনমত গঠনে প্রভাব সৃষ্টি করার যে বহুলপ্রচলিত পদ্ধতিটি রয়েছে, সেই পদ্ধতিটি বহুলব্যবহারের ফলে দেশের গণমাধ্যম ও সাধারণ জনসাধারণের মাঝে খুব ধীরে হলেও একটি দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। যেভাবে সব চলছে, তাতে এই দূরত্ব কমবে না, বরং বাড়তে থাকবে।

সংবাদমাধ্যমের কর্তাব্যাক্তিরা নিজেদের ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা দর্শনের প্রভাব বজায় রাখুন, তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তু চারপাশে যা ঘটছে, সেগুলো তুলে ধরার ব্যাপারেও যদি রাজনৈতিক দর্শনের প্রয়োগ করে কোন ঘটনার প্রচারকে অতিরঞ্জন আবার কোন ঘটনার প্রচারকে বিবর্জন করা হয়, তাহলে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা যে ক্ষতির শিকার হবে, তা আখেরে গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত হানবার পথকে সুগম করতে পারে।

Posted in Bangladesh | Tagged: , , , , , , , , , , , | Leave a Comment »

কিছু মিডিয়া কি ইব্রাহিম খালেদকে ইউনূসের পাশে বসাতে চলেছে?

Posted by Mohammed Tawsif Salam on April 16, 2011

বাংলাদেশে চাঞ্চল্যকর অর্থ কেলেঙ্কারিগুলোর সমালোচনায় রাজনীতির বেশ দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকার ফলে ঠিক কি পরিমাণ টাকার জালিয়াতি হয়েছে, তা মুহুর্মুহ রাজনৈতিক বক্তব্য-পাল্টাবক্তব্যে হারিয়ে যায়। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক কেলেংকারিতে প্রচারিত অর্থের পরিমাণ হাজার থেকে লক্ষ কোটির মাঝে ঘোরাফেরা করেছে। সম্প্রতি বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থর সংসদীয় বক্তব্যের ফলে ‘তিরিশ থেকে চল্লিশ হাজার কোটি’ সংখ্যাটি জাতীয় সংসদের রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।

এটা বলা অপেক্ষা রাখে না যে যে অর্থ কেলেংকারিতে হাজার হাজার কোটি টাকা জড়িত, সেই কেলেংকারির নায়করাই হচ্ছে সে টাকাগুলোর প্রকৃত দখলকারী, যারা রাজনীতির সব হিসেব-নিকেষ বাদ দিলেও শুধু ঐ অর্থের জোরেই প্রচন্ড ক্ষমতাবান।

পুঁজিবাজারের কেলেংকারি তদন্তের আগপর্যন্ত বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সাবেক সরকারী ব্যাংকার ইব্রাহিম খালেদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু তদন্তের পর সেই প্রতিবেদন জমা দেয়া, প্রকাশ ও তাতে উল্লেখিত তথ্যকে ঘিরে একটি তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত হঠাৎ ঘোষণা দেন যে সেখানে দায়ী ব্যাক্তি হিসেবে কয়েকজনের নাম দেয়া আছে, যেগুলো এই সরকার প্রকাশ করবে না। প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী, তিনি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ‘কারও প্রতি অনুরাগ বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে কিছু না করা’-র শপথ নেয়া মন্ত্রী, তিনি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জানান, ঐ নামের লোকজন অনেক ক্ষমতাবান, তাই তাদের নাম বলা যাবে না।

এই প্রকাশ করা না করার প্রসঙ্গেই জন্ম নেয় বিতর্কের, যার ফলে দেশের সংবাদমাধ্যমের বেশ জবরদস্ত কিছু অংশীদার ইব্রাহিম খালেদের প্রতি সেই আচরণ করা শুরু করলেন, যেই আচরণ তারা কিছুদিন আগেই করেছিলেন ডক্টর ইউনুসের প্রতি।

সংবাদমাধ্যম এখন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না। সংবাদমাধ্যম এখন কাগজ, টেলিভিশন, রেডিও ও কম্পিউটারের স্ক্রিন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই উল্লেখিত মাধ্যমগুলোর প্রত্যেকটিই বাংলাদেশের কয়েকটি বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যম রয়েছে। এই মাধ্যমগুলোতে যারা ডক্টর ইউনুসের প্রতি কিছুদিন আগে করা আচরণের ধরণগুলো মনে রেখেছেন, সেগুলোকে চোখের সামনে ভাসালে তারা বোধ করি সেই বিচারে তখনকার ইউনুস সাহেবের চেয়ারে এখনকার ইব্রাহিম খালেদ সাহেবকে বসাতে পারবেন। বেখাপ্পা লাগবে না।

পুঁজি বাজারে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি হওয়ার পর এবং তার অংশীদার তেত্রিশ লক্ষ ব্যবসায়ীর প্রায় পথে বসবার দশা হওয়ার পর অনেক ঘটনা ঘটেছে ও ঘটছে। তবে মূল বা বেসিক ঘটনাটি ক্রমানুসারে হচ্ছে,

- একটি মহাপ্রতারণা করা হয়েছে। বহু মানুষ বহু বহু অর্থ বাজারে টেনে এনে সেগুলো গাপ করা হয়েছে। গাপ করেছে কয়েকজন মানুষ, যারা অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যমতে এতই ক্ষমতাবান যে তাদের নাম নাকি তিনিই নিতে পারছেন না।

- সেগুলো তদন্ত করতে একজনকে বলা হয়েছিল, যেই তিনি তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি নাম ও কয়েকটি লাইন লিখলেন, ওমনি তার উপর শব্দবাণ নিক্ষিপ্ত হতে লাগল। যে নাইমুল ইসলাম খানকে কখনও ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে অন্তত আমি দেখিনি, তিনিও এসে বললেন ইব্রাহিম খালেদের নাকি নীতির স্খলণ হয়েছে, ইব্রাহিম খালেদ নাকি দুর্নীতিবাজ। এই নাইমুল ইসলাম কিছুদিন আগে ডক্টর ইউনুসেরও একজন হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সমালোচক ছিলেন।

- যে অর্থমন্ত্রী বললেন ক্ষমতাবানের নাম নেয়া যায় না, যে এমপি বললেন বিনিয়োগকারীরা সব ফটকা, যে অর্থ উপদেষ্টা বললেন বিনিয়োগকারীরা নাকি আদৌ সরকারের মাথাব্যাথাই না, তাদের বক্তব্য নিয়ে মিডিয়াকে বিন্দুমাত্র ভাবিত দেখা গেল না।

বাস্তবতা হচ্ছে, কোন বহুল আলোচিত ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ফলাও ভাবে যা প্রচারিত হয়, তা কোন কোন ক্ষেত্রে শুধু সেই ঘটনাটিরই ব্যাখ্যা নয়, বরং সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট হাজারটা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার নির্যাস। বিশেষ করে কোন কোন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত কোন খবরের কয়েকটি লাইন পড়েই স্মরণ করতে হয় কে সেটির মালিক।

এই পরিস্থিতিতে একদল সংবাদ বিশ্লেষক সারাদিন মাথা কুটলেও কেউ বিশ্বাস করবেন না যে ইব্রাহিম খালেদ দুর্নীতি করে এখানে জলঘোলা করেছেন। বিশ্বাস করবেন না এই কারণে নয় যে সবাই ইব্রাহিম খালেদকে খুব ভালো জানেন। বিশ্বাস করবেন না এই কারণে যে- হঠাৎ করেই একজন নির্দ্দিষ্ট ব্যাক্তির, সে ইউনুসই হোক আর ইব্রাহিম খালেদই হোক আর শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত আইনজীবি পায়াম আখাভানই হোক, চরিত্রহননে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সমবেত ও অন্তহীন চেষ্টার মাঝে যে কোথাও এতটুকু সৎ সাংবাদিকতা নেই, সেটি বোঝেন বাংলাদেশে এমন মানুষের সংখ্যা এখন অনেক। এই সংবাদমাধ্যমগুলোই রাজনীতি আর ব্যবসার দলাদলি করতে গিয়ে মানুষকে চালাক বানিয়ে ফেলেছে।

বোকা মানুষ ঠেকে শিখে চালাক হয়, চালাক মানুষ কিন্তু আর বোকা হয় না। যে পাঠক বা দর্শক বা ইন্টারনেট ব্যবহারকারী খবর পড়ে তার দিকে ঝুঁকে গিয়ে গন্ধ শোঁকার অভ্যেস একবার রপ্ত করে ফেলেছে, তার আর সেই অভ্যেস থেকে নিষ্কৃতি নেই, নিষ্কৃতি নেই আমাদের সংবাদমাধ্যমেরও।

অতএব ইব্রাহিম খালেদকে নিয়ে নষ্ট খেলা বন্ধ হোক। শেয়ার কেলেংকারিতে জড়িত মহাদস্যুদের বাঁচাবার চেষ্টা বন্ধ হোক।

Posted in Bangladesh | Tagged: , , , , , , | Leave a Comment »

About Colonel Taher Trial Verdict

Posted by xanthis on March 24, 2011

By Rumi Ahmed

_______________________________

While giving the verdict on the legality of the punishment of Colonel Taher, the high-court bench of Justices Shamsuddin Chowdhury Manik and Zakir Hossain declared that the whole trial process was illegal and it was in fact a cold blooded murder of Taher by Late president Ziaur Rahman.

What high-court did to come to this conclusion? They interviewed one shoddy journalist character Lawrence lifshultz, who is a political follower of Taher’s communist doctrine. Other interviewed are also 1. Political opponents of Ziaur Rahman’s political platform 2. Supporters of ruling party who took it as their prime job to destroy Zia’s image 3. Political followers of Colonel Taher. Even the judges who delivered the justice, are publicly known nemesis of Ziaur Rahman’s ideology and are former leaders of socialist political platform based on Taher’s doctrine. And this is probably the first court proceeding in Bangladesh history where an witness could simply deliver his opinion via e mail to a third person. There was no ‘balai’ of oath taking, cross examination etc.

Before we go further into what these two judges did and what their judgment means, lets see what Taher in fact did back in early 70s.

1. Taher revolted against the then Awami League government of Sheikh Mijibur Rahman and formed and led an armed force called ” Gonobahinee”. Thousands and thousands of Awami League activists, leaders as well as general people were killed by the armed force. Any literature describing Mujib era Bangladesh will give testimony of the atrocities of Taher’s Gonobahinee.

2. While all other sector commanders were being promoted in the army as Brigadier/ Major General and who in turn helped rebuild the army, Taher was sacked from Bangladesh army by Mujib Government. ( It is unclear what Shamsuddin Chowdhury Manik had to say about this cold blooded sacking of ‘war hero’ Taher).

3. Many sources, well informed of the political military dynamics of 1975, say that it was Taher who was more likely to kill Mujib and there was an invisible race among Taher’s group and Faruq Rashids group in who would kill Mujib first. After hearing of the massacre of 15th August, most observers’ first suspicion was on Taher.

4. Taking the advantage of unstable situation of Bangladesh, Taher’s forces ( a select group of armed anti state forces including Taher’s brother Bahar) attacked Indian High Commission in Dhaka in an attempt to kill India’s high commissioner in Dhaka, Mr Samar Sen. Although Samar Sen survived with bullet wounds in his back, Police force guarding India’s high Commission shot and killed four members of Taher forces ( Including Taher brother Bahar).

5. About his 7th November coup this is what Taher himself said to the court that tried him,

In the above statement Taher comes down hard upon Major General Khaled Mosharraf. He also probably acknowledge being involved in his killing when he says that ‘when these cowards was begging for their lives on bent knees?’ Who were begging for their lives to him?

6. About 7th November he clearly claims that he conducted the coup and overthrew a government. He says this in the following statement,

http://rumiahmed.files.wordpress.com/2011/03/t11.jpg?w=595&h=103

The same judiciary which is all gung ho in coming down upon Ziaur Rahman for grabbing power by martial law, the same court which keeps on declaring power takeover by coups illegal every other day and takes yet another bite at Ziaur Rahman, suddenly has a change of heart in exonerating Taher’s military takeover that ultimately put Ziaur Rahman in power.

7. Taher clearly states that he requested martial law and he wanted Zia to be CMLA of the martial law and Zia declines to be CMLA.

http://rumiahmed.files.wordpress.com/2011/03/t3.jpg?w=594&h=122

8. What Taher really wanted to do?

In the above statement made to the court, he explains that he wanted to dismantle the tradition armed forces of Bangladesh and created a revolutionary forces. How many of our new generation Taher followers know what Taher’s plans meant? Do Justices Manik and Zakir know of Khmer Rouge of Cambodia? Do they know the history what Pol Pot did to the country in the name of peoples’ army run revolution of production? ( If anyone disagrees with above, we sure can have a lengthy academic discussion on the meaning of scientific socialism.)

Or in more recent history, would Nepalese military dismantle to pave the way for the Maoists to take over as peoples’ army?

9. The violent coup/ communist indoctrinated uprising that Taher staged, caused the lives of at least sixty members of armed forces ( Officers and their family). Among those killed included war hero, war time K force leader Khaled Mosharraf, war hero Col ATM Haider, war hero Col Saiful Huda. All of them were killed at the then military garrison at Sher e Bangla Nagar. Sher e Bangla Nagar happened to be the HQ of the rebel forces led by Taher. None of these war heroes were killed in a matter of minutes. They were all arrested, kept in the garrison at least nearly a day before being killed. It is impossible to believe that Taher was not aware of these high profile killings by his forces. But for the sake of debate, if one agrees that Taher was not aware of those killings, can Taher absolve himself of the responsibility of the murder of Khaled Mosharraf and 60 other? On many occasions, he claimed that he staged the mutiny. How can the leader of a mutiny can be exempted of the atrocities caused by a mutiny? Judge Manik et el are so passionate about correcting history, what about trial of the killers of Khaled Mosharraf and sixty others? One name comes again and again in relation to murder of Khaled/ Haider. i.e. Captain Jalil. Did our high-court bothered to summon Captain Jalil and ask him some question?

10. Pilkhana is fresh in our memory. The atrocities committed by BDR sepoys are despicable. A massacre was committed, rapes, loots, arson were indiscriminate. Bodies were burnt and buried in mass graves. Is there any scope of letting the leader of these crimes go unpunished citing technicality of law or lack of law? When murders/ killings are committed, the state has every right to hand maximal punishment to the killers. If Taher can be exonerated for staging a Pilkhana style violent fatal uprising, then on what logic the state can punish Pilkhana uprising leaders? In other words, if Pilkhana mutiny leader DAD Touhid is punished for his crimes, why can Taher not be punished?

11. There is a propaganda that Taher’s was a secret trial. In fact it was exactly the opposite.

Even Col Taher spoke for hours after hours. He was seen frequently misbehaving with the judge of the court.

12. Using high judiciary for partisan point scoring and distorting history is one of the gravest crimes against the state one can think of. One can certainly allege that Judge Manik and Zakir are doing exactly the same thing and then shutting everyone’s mouth by scaring them of contempt of court.

[The Bangla excerpts are purely Taher's side of the story as these are taken from the website of Taher Shongshod. On a side note, one of Judges of High Court, Justice Ruhul Kuddus Babu is still the general secretary of the Songshod. The judge delivering the verdict was a long time leader of the socialist party Taher helped form ]

Posted in Bangladesh, Lawrence Lifschultz | Tagged: , , , , , | 5 Comments »

ডেইলি স্টারের ‘দ্যাট বিজনেসম্যান’ ও সালমান এফ. রহমান

Posted by xanthis on January 27, 2011

http://firstcache.files.wordpress.com/2011/01/daily-star-vs-salman-f-rahman-over-stock-collapse-500px.jpg

খবরটি গত সোমবার ডেইলি স্টার পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল প্রথম পাতায়। পুঁজিবাজারে সরকারদলীয় রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের দুর্নীতির আলোচনা তুঙ্গে থাকা বর্তমান সময়ে ডেইলি স্টারের ঐ বিশেষ খবরটিতে যেন ছিল চুম্বকার্ষণ। কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু। অবশেষে খবর প্রকাশের দিনের শেষ ভাগে সালমান এফ. রহমান এটিএন নিউজে এক সাক্ষাতকার দেয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতিতে একটি অন্য মাত্রা যোগ করেছেন।

 

কী ছিল ঐ রিপোর্টটিতে

রিপোর্টের শিরোনাম- All fingers pointed at one man. অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লেখা রিপোর্টটিতে একটি বারের জন্যেও কোন বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে রিপোর্টের অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়েই রয়েছে ঐ ব্যবসায়ীর পরিচয়। তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে ব্যবহৃত বিশেষণ ও উল্লেখগুলো হল- তিনি ক্ষমতাসীন দলের এমপি, দলে প্রভাবশালী, তার প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর আগেও ঋণের ভারে জর্জরিত ছিল, কর্মীদের বেতন দিতে পারত না, কিন্তু ২০০৯-এর মাঝামাঝি থেকে তারা দেশের একটার পর একটা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিতে শুরু করে। পরিচয় পর্বে এও বলা হয়, ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারিতেও এই ব্যবসায়ী জড়িত ছিলেন, কিন্ত ‘পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব’-এর অজুহাত দেখিয়ে সরকার তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

http://shatil.files.wordpress.com/2011/01/fm-meet-on-stock-collapse-2-600px.jpg?w=502&h=327

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের অস্বাভাবিক পতন বিষয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’-তে অর্থ মন্ত্রী এ.এম.এ. মুহিতের সাথে কিছু অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর ঐ বৈঠকে এই বিশেষ ব্যাক্তির ভূমিকা প্রসঙ্গে বলা হয়, বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক ব্যাক্তি স্টক এক্সচেঞ্জের ঐ বিপর্যয়ের জন্য ঐ ব্যবসায়ীকে দায়ী করেন। জবাবে ব্যবসায়ী জানান তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী এবং এহেন সম্বোধনে তিনি অপমানিত হয়েছেন। এতে বৈঠকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অর্থ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা স্বাভাবিক হয়।

 

এটিএন নিউজে সালমান এফ. রহমানের সাক্ষাতকার

সোমবার রাতে এটিএন নিউজের স্টুডিওতে এসে মুন্নি সাহাকে সালমান এফ. রহমান একটি সাক্ষাৎকার দেন। স্টক মার্কেট কলাপস নিয়ে বাতাসে উড়তে থাকা খবর যেগুলোর অধিকাংশের সাথে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের একাধিক সদস্যের নামের পাশাপাশি সালমান এফ. রহমানের নামটিও জড়িয়ে আছে, সেই খবরগুলো প্রসঙ্গে মুন্নি সাহা সালমান এফ. রহমানের কাছে জানতে চান। নরমে-গরমে, হেসে কিংবা কখনও ক্ষেপে সালমান এফ. রহমান সেগুলোর জবাব দেন। তার বেক্সিমকো ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সাত বছর ধরে জমতে থাকা ঋণের বোঝার পুরোটা মিটিয়ে দিয়েছে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের এমন খবরের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, তারা যখন ঐ খবরটি করে তখনও ঋণ পুরোটা মিটানো হয়নি। উল্লেখিত সময়ে তার প্রতিষ্ঠানের দূরবস্থার কথা স্বীকার করে তিনি যোগ করেন, এমনও হয়েছে যে ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তিনি বাকি কর্মীদের বেতন দিয়েছেন। কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি রাতারাতি এখনকার মত নধর আকৃতি পেয়ে গেল, মুন্নি সাহার এই প্রশ্নের জবাব তিনি এভাবে দেন- কোম্পানির ভিত্তি বরাবরই শক্ত ছিল, অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর তার পরিবারের সক্রিয় সদস্যরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে ব্যবসার হাল ধরে, তিনিও জেল থেকে বেরিয়ে এসে সক্রিয় হন।

http://shatil.files.wordpress.com/2011/01/fm-meet-on-stock-collapse-1-600px.jpg

ঋণের ভারে জর্জরিত একটি প্রতিষ্ঠান রেকর্ড পরিমাণ ঋণ উৎরে শুধু মাত্র পারিবারিক পুনর্মিলনীর দিয়ে কয়েক বছরের মাঝে জিএমজি এয়ারলাইন্স, ওয়েস্টিন হোটেল, বিডিনিউজ২৪-এর মালিকানা কীভাবে পেতে পারে, মুন্নি সাহা সালমান এফ. রহমানকে এই প্রশ্ন করে বিব্রত করেননি।

ডেইলি স্টার প্রথম আলো-র সাথে সালমান এফ. রহমানের একটি ‘মেক্সিকান স্ট্যান্ডঅফ’ ঘটেছিল প্রায় এক বছর আগে। ঋণে জর্জরিত অবস্থা থেকে সালমান এফ. রহমানের প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর উত্তরণকে প্রশ্ন করে কয়েকটি রিপোর্ট ছাপে প্রথম আলো। তার জবাবে সালমান এফ. রহমান সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান প্রথম আলো ডেইলী স্টার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে। তিনি ওয়ান-ইলেভেনওয়ালাদের সাথে প্রথম আলো ডেইলী স্টারের সুসম্পর্কের কথাটি উল্লেখ করেন, এবং মাইনাস-টু ফর্মুলার প্রণেতা হিসেবে তাদেরকে চিহ্নিত করেন। তার জবাবে ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রথম আলো প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, “একজন বছরের পর বছর ঋণ খেলাপ করে যাবে, কেউ তা নিয়ে কিছু বলতে পারবে না? সালমান এফ. রহমান এমন কী মানুষ যার সমালোচনা করলে সরকার অস্থিতিশীল হয়ে যাবে?” মেক্সিকান স্ট্যান্ডঅফই বটে!

সেই দিকগুলো সাম্প্রতিক স্টক মার্কেট কোলাপসের মধ্য দিয়ে যেন আরেকটু উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ডেইলি স্টার তার গোটা রিপোর্টে কোথাও সালমান এফ. রহমান বা বেক্সিমকোর নাম উল্লেখ করে নি, তবে এটিএন নিউজের সাক্ষাৎকারে সালমান এফ. অম্লানবদনে ডেইলী স্টারের ‘ঐ বিশেষ ব্যবসায়ী’ হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করে রিপোর্টটির সমালোচনা করেছেন। তিনি রিপোর্টটির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং কয়েকটি ঘটনা বিকৃত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান। যেমন- ডেইলী স্টার বলছে বৈঠকের একজন অংশগ্রহণকারী কলাপসের জন্য সালমান এফ. রহমানকে দায়ী করলে কথা কাটাকাটি শুরু হয় ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে, যা নিরসনে অর্থ মন্ত্রী এগিয়ে আসেন। সালমান এফ. রহমান জানান ওরকম কিছুই সেখানে ঘটেনি। বৈঠকের এক পর্যায়ে তাকে ও তার প্রতিষ্ঠানকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা হয় স্বীকার করে তিনি জানান, তিনি সেখানে তোলা প্রশ্নগুলোর এক এক করে জবাব দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে জবাব দিতে গিয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি ‘এক্সাইটেড’ হয়ে পড়েন। সম্ভবত চেঁচিয়ে উত্তর দেয়ার ব্যাপারটাকে তিনি ‘এক্সাইটেড’ দিয়ে প্রকাশ করেছেন। তিনি যোগ করেন যে বৈঠকের শেষে কয়েকজন ব্যাক্তি তাকে জানিয়েছেন যে তার জবাব খুব ভালো হয়েছে, তবে আরেকটু নিম্নস্বরে ঠান্ডা মাথায় জবাব দিলে ভালো করতেন।

 

‘ইয়োর রাইট টু ন্যো’ ও ঢাক ঢাক গূঢ় গূঢ়-এর সহাবস্থান

‘ইয়োর রাইট টু ন্যো’-কে ডেইলি স্টার তাদের শ্লোগান হিসেবে বেঁছে নিয়েছে, যেমন বেঁছে নিয়েছে নিউ এজ ‘বায়াসড ট্যুয়ার্ডস পিপল’-কে। শ্লোগানগুলো সৎ, সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্মশীল সাংবাদিকতার প্রতীক। পত্রিকা হিসেবে ডেইলি স্টার বহুলপঠিত। চলমান ঘটনা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর উপর খবর জানতে পত্রিকাটি বহু মানুষের জন্যই প্রাথমিক ও একমাত্র উৎস। সেই বিচারে বহু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রভাব ফেলার ক্ষমতা ও যোগ্যতা, দুইই পত্রিকাটির আছে। এই ক্ষমতা অতীতে তারা ব্যবহারও করেছে। এই ব্যবহার তাদেরকে বহুলপ্রচারিত প্রশংসা ও বহুলপ্রচারিত তিরষ্কার, দুইই এনে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সত্য প্রকাশে তাদের অপারগতার বিষয়টি আপত্তিজনক তো বটেই, অত্যন্ত হতাশাজনকও। ‘All fingers pointed at one man’ শীর্ষক রিপোর্টটিতে তাদের শ্লোগানকে আংশিক ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটে রিপোর্টটির নীচে পাঠক মন্তব্য পড়লে ব্যাপারটি আরও স্পষ্ঠ হয়ে উঠবে। প্রথম পাঠক মন্তব্যটিতেই এই ‘ঢাক ঢাক গূঢ় গূঢ়’ অবস্থানের সমালোচনা করে একে অগ্রহণযোগ্য আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কয়েক বছর আগে পত্রিকাটির সম্পাদক মাহফুজ আনাম একটি টিভি সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, “সালমান এফ. রহমান এমন কী মানুষ যার সমালোচনা করলে সরকার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে?”। এই কথাটি মনে রেখে ডেইলি স্টারের ঐ রিপোর্টটি পড়লে একজন পাঠকের মনে হতেই পারে, অবশেষে ডেইলি স্টারের দৃষ্টিতে সালমান এফ. রহমান কি এমন কোন ব্যাক্তি হয়ে উঠেছেন যার সমালোচনা করলে তারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশংকা করছেন?

Posted in Bangladesh | 1 Comment »

BDNews24′s having joke with the readers? or has boozed hard?

Posted by xanthis on July 20, 2010

Click on the image to enlarge.

Look at a bdnews24.com screen-shot taken at 11:40am today (20 July, 2010)

Photo of Jamuna’s overflow in the article about Barapukuria Coal-mine procession.
Photo of Mayor Manzur Alam in the article about Police’s killings inside custody.
Photo of Abdul Mannan Bhuiyan in Muktijoddha Shangshad election flap article.
Photo of Barapukuria coal-mine in Humayun Azad murder attempt trial.

Poor editor! Didn’t care about the limit while boozing last night!

We know how difficult it is to appear as neutral when you are not in fact neutral. But never counted ‘boozing’ as a problem for news sites.

From now, BDNews24 is not Bangladesh News Twenty 24.
It will be Boozers’ Delight News 24.

Posted in BDNews24 | 3 Comments »

Cause and Effect: Awami League Style (via In the Middle of Nowhere)

Posted by xanthis on July 20, 2010

Mahmudur Rahman printed stories involving allegations of corruption about the Prime Minister's family and her cabinet. He is in prison and his newspaper has been forced to stop publishing. Shamsher Mobin Chowdhury wrote an article in the Daily Star analyzing BNP's victory in the Chittagong City Corporation elections. He is in prison. Shahiduddin Chowdhury said that Bangabandhu cannot avoid responsibility for the forty thousand people killed durin … Read More

via In the Middle of Nowhere

Posted in Bangladesh | Leave a Comment »

How can one protest in Bangladesh? (via In the Middle of Nowhere)

Posted by xanthis on July 20, 2010

How can one protest in Bangladesh? Updated: এ যেন ‘পুলিশেরই মানববন্ধন’. Hartal is unpopular and inconvenient for the citizens. Hartal related violence is bad. We all agree. So what is the alternative? Over the years we have seen that formation of human chain on road side pavements as a mode of protest is gaining popularity. This mode of protest is popular as this neither cause traffic congestion nor interrupts public life. When Bangladesh's opposition party BNP announced it's prog … Read More

via In the Middle of Nowhere

Posted in Bangladesh | 1 Comment »

Intel agents kidnap Amar Desh publisher, forces to sue pro-opposition editor

Posted by xanthis on June 2, 2010

Hashmat Ali, the publisher of Daily Amar Desh, was kidnapped by agents of Bangladesh National Security Intelligence (NSI) earlier in the morning of 1 June, 2010. His family members alleged that more than 4 agents with a vehicle came into their Shahjahapur, Dhaka residence and forced Hashmat to leave with them at gunpoint. Hashmat Ali left with the agents and no trace of him was found for the whole day.

Speculations arose that Ali probably has suffered an extra-judicial detention by the Awami League government and could be used to file cases, complaints or issue other papers that might affect the operation of the pro-opposition Daily Amar Desh, where he served as the publisher.

As the day progressed and Ali was still missing, Mahmudur Rahman, the editor of Daily Amar Desh was contacted and he feared that innocent Hashmat Ali can be forced by the government agents to sue him for anything they want. Mahmudur Rahman, like he told many times before, said to the media that all symptoms of a dirty war against the media and public opinion is being waged by Awami League, where government paid intel agents and their own political activists are being their soldiers against the people who are expressing free opinions elaborating the misrule Awami League is conducting presently.

When all these extra-judicial stuffs were on process, hundreds of law-enforcers took position surrounding the Amar Desh office and printing press. As the day was progressing, it came evident that the Awami League government has mobilized all necessary forces to close down Daily Amar Desh by any means necessary.

By 3pm Hashmat was home and within hours was again taken away by the NSI agents.

As of 5pm, Hashmat was still without trace and Mahmudur Rahman went for a press conference in the National Press Club at late afternoon. In the press conference, he tipped off the journalists that Hashmat was taken to NSI HQ in the morning where he was forced to sign under blank sheets. Mahmudur told the press, any newspaper or person saying for a sovereign and free Bangladesh state, never can keep saying without angering the present Awami League government, and this is how Amar Desh has come under their vengeance.

Dramatically few hours ago (the clock is 23:40BST now), a case has been filed by Hashmat Ali against Mahmudur Rahman for fraud, as the Tejgaon Industrial Area officer in-charge Omar Faruk told. Note it, it was the first appearance of Hashmat Ali since his 2nd kidnap by the NSI agents after 3pm. Hundreds of cops still are taking position around Amar Desh office and press, and it’s nearly clear that the Bengali daily is not to be published at least for today.

All TV channels, news sites etc. were keeping complete mum about the entire extra-judicial detention of Hashmat Ali and press meets of Mahmudur Rahman. Only BDNews24 was found vibrant on the issue which has been covering the matter since the first visit of NSI agents at Hashmat’s residence earlier in this morning. A serial of their coverage is provided for more details,

Amar Desh publisher ‘detained’
Amar Desh publisher freed after ‘detention’
Amar Desh publisher ‘out of home’
Govt plans to ‘shut Amar Desh’
Delwar alleges plot to shut down Amar Desh
Amar Desh publisher sues acting editor

Awami League’s Legacy of Stressing the Media

Mujib’s ban over all newspapers & killings of leftist leaders

The present ruling party Bangladesh Awami League has a legacy of stressing the media as its slain former leader Sheikh Mujibur Rahman banned all but four newspapers in Bangladesh in June 1975. Moreover, a number of journalists of the pro-left newspapers succumbed extra-judicial killings by the then government militia Jatiyo Rakkhi Bahini. One of the leftist leaders were Siraj Sikder of Jatiyo Samajtantrik Dal who was kidnapped by Rakkhi Bahini troops from home and then shot to death later on that day.

Stressing the Talkshows in 2009

After Awami League took office for the 3rd term in January 2010, a new era of stress over the media was introduced as the private TV channels were all forced to go by a government-made list of the persons who they cannot invite in the talkshows. One of the listed persons were former bureaucrat Asaf-ud-Doula who was popular for slamming the military government led by Gen. Moeen.

Ban over Youtube

Again after junior military officers publicly bashed Sheikh Hasina for deliberate inactiveness during the February 2009 Pilkhana carnage, Awami League government blocked Youtube, Esnips and Media Fire as the audio files of Hasina’s getting slammed were out on upload.

Public Chase & Beating of Amar Desh reporter M. Abdullah

In late 2009 when a story on corruption by Hasina’s son Sajid Wazed Joy and adviser Towfiq Elahi Chowdhury was out on Daily Amar Desh by the senior reporter M. Abdullah, an army of ruling party activists attacked the reporter out on public in broad daylight. He was chased on the streets of Dhaka, held, tortured, his personal car vandalized and the chauffer was tortured too.

Chhatro League skirmish over newsmen

Since the Awami League govt took office on January 2009, their student wing Chhatro League has been leading violent and bloody fights to get control over campuses and illegitimate trades. Beside abusing female students across the country and the forced prostitution by Chhatro League leaders in college dorms including Eden College, Dhaka, a significant part of their skirmish was to take on the journalists who covered their activities. In this process, a number of newsmen of Daily Amar Desh, Shamokal, two photo journos of Daily Prothom Alo, a journalist of Daily Jugantor and two crews of NTV were beaten by Chhatro League in Dhaka, Rajshahi and Barisal.

Ban over Channel One

Awami League government in April 2010 banned the private TV channel Channel One as its news desk vehemently reported the poll-rigging in Bhola-3 by-election. After the ruling Awami League candidate won the election, a group of Awami League activists kidnapped a female BNP leader from her residence, raped her and then abandoned by the streets. These all came highlighted in Channel One, as a result, the channel was banned by the government within a week and 418 men went jobless at once. The channel still remains closed.

Ban over Facebook

So far the final crackdown of Awami League have been over Facebook, as the government officials discovered that cartoons of Sheikh Hasina were being uploaded and shared in the site. Nearly 1 million Bangladeshis have been forced to stop using by the recent government decisions to indefinitely closed down Facebook.

Finally Amar Desh?

It appears the crackdown has now come over Amar Desh.

Rumi Ahmed in his blog has provided a list of some greatest hits done by Amar Desh since Awami League took office.

Some of Amar Desh’s greatest hits from just the last two months

Posted in Army, Awami League, আওয়ামী লীগ, চ্যানেল ওয়ান, ছাত্রলীগ, দূর্নীতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাকশাল, মোজাম্মেল বাবু, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, Bangabandhu, Bangladesh, Bangladesh Awami League, Bangladesh Chhatro League, Bangladesh Politics, BCL, BDNews24, BKSAL, BNP, Brutality, Brutality by Awami League, Channel 1, Chhatro League, Conspiracy, Corruption, Crime Against Humanity, Dhaka, Election Commission, Enemy of the State, Human Rights, Hypocrisy, Intelligence, Journalism, Media War, Military, Misrule, Mozammel Babu, News, Pilkhana Massacre, Political Brutality, Political Violence, Politics, Renata Lok Dessallien, Reppression, Say No To Military Rule, See this, Sheikh Hasina, Sheikh Mujibur Rahman, State of Emergency, Student Politcs, Student Politics, Stupidity, Taposh. Tagged: Bangabadhu Murder Case | 4 Comments »

পিংক ফ্লয়েড, বিটলসকে হার মানানো মন্ত্রীবৃন্দ ও রমেশ সেনের লেটেস্ট অ্যালবাম

Posted by xanthis on May 22, 2010

পিংক ফ্লয়েড, বিট‌ল‌সের মত ব্যান্ড গুলা অ্যাক্টিভ ক্যারিয়ারে গানের জন্য যতটা না হেডলাইন হয়েছে, তার চেয়েও বেশী বার হেডলাইন হয়েছে তাদের ভেতরকার অ’সঙ্গীত’উচিত ঘটনাবলীর জন্য। যেমন বিটলস থেকে লেনন, হ্যারিসনের বের হয়ে যাওয়া, পিংক ফ্লয়েডে ওয়াটার্সের বের হয়ে যাওয়া, ওয়াটার্সের সাথে গিলমোর আর ম্যাসনের ঝগড়া, রিক রাইটের সাথে ঝগড়া, আদালতে দৌড়াদৌড়ি ইত্যাদি।

আমাদের দেশের ক্যাবিনেটেও কয়েকজন পিংক ফ্লয়েড আর বিটলস আছেন। এনারা হচ্ছে, যাকে বলে- ইশটার, মিডিয়া ম্যাগনেট। যেমন-

কর্নেল ফারুক খান (এখন সামান্য দমেছেন)
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম (ইদানিং একটু বেশী বাড় বেড়েছেন)
রমেশ চন্দ্র সেন (বছরে একটা করে হিট অ্যালবাম বের করেন)
সাহারা খাতুন (মমতাজ আপার মত আর্টিস্ট, প্রতি সপ্তাহে দশটা বা তারও বেশী অ্যালবাম বের করেন, তার মধ্যে থেকে দুই একটা ক্লিক খেয়ে যায়)
ড: দিপু মণি (ইনি হচ্ছেন আলিশা চিনয় কিংবা আমাদের ইভা রহমান, অ্যালবাম সব ফ্লপ কিন্তু আর্টিস্ট হিট)

তো যাই হোক, পিংক ফ্লয়েড আর বিটলস সময়কালে যে কারণেই আলোচিত হোক না কেন, বিশ তিরিশ বছর পর আজকে তাদের মানুষ গানের জন্যই মনে রাখে। কিন্তু আমাদের ক্যাবিনেটের বিটলস, ফ্লয়েডদের সারা জীবন তাদের ‘আলোচিত’ বিষয়ের জন্যই মনে রাখবে।

রমেশ চন্দ্র সেনের গত বছরের অ্যালবামের বিষয়বস্তু ছিল টিপাইমুখ বাঁধ। টিপাইমুখ বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে, ভারত বৃহত্তর প্রতিবেশী তাই লস দিয়ে হলেও বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা বাংলাদেশের কর্তব্য, ‘আগে বাঁধ, তারপর প্রতিবাদ’ ইত্যাদি ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ইস্যুকে প্রতিপাদ্য করে তিনি ঐ অ্যালবামটা বের করেছিলেন।

কিন্তু এই বছরের অ্যালবামের বিষয়বস্তু পুরোই বাস্তবধর্মী। আর আশা করা যায় আওয়ামী লীগের এই শাসনামলে বের হওয়া মন্ত্রীদের অ্যালবামগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশী হিট করতে যাচ্ছে রমেশ চন্দ্র সেনের এই সদ্য রিলিজ হওয়া অ্যালবাম।

সময়ঃ ১২ মে, ২০১০ বিকাল
স্থানঃ শিল্পকলা অ্যাকাডেমি, ঠাকুরগাঁও
উপলক্ষঃ ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন
প্রধান অতিথিঃ পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন স্বয়ং

আওয়ামী লীগ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন

রমেশ চন্দ্র সেন এর আগেও টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে একাধিকবার বাংলাদেশ-বিরোধী বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন

তো চলুন, এই রিলিজের কিছু উল্লেখযোগ্য বক্তব্য আমরা শুনি।

“কিছু দিন আগে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যে সার্কুলার আমরা দিলাম, তার সবই আমাদের। এক-আধটা হয়তো স্লিপ হতে পারে ভুলক্রমে, ঠিক জানি না। তবে সবই আমাদের। পুলিশের চাকরিগুলোও ঠিক এভাবে দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমাদের ছেলেদের। আরো এই যে ২০ তারিখে পুলিশের চাকরির নিয়োগ হবে, অবশ্যই আমরা আমাদের নিজেদের ছেলেদের দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তা ছাড়া সামনে এই ১৮ তারিখ থেকে আমাদের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ হবে। হেড মাস্টার নিয়োগ হবে। সেগুলোর আমরা তথ্য নিচ্ছি। এই তথ্যগুলো নেওয়ার পরে আমরা অবশ্যই আমাদের ছেলেদের প্রাধান্য দিয়ে কাজ করব।”

“আমরা এত উন্নয়নের কাজ করছি, সব কি মিডিয়ায় আসে, আসে না। দু-একটি পেপার-পত্রিকা আমাদের কাজ করে। বাকিগুলো আমাদের বিপক্ষে কাজ করে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, যেমন চ্যানেল ওয়ান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তেমনিভাবে আরো কিছু চ্যানেল আমরা বাতিল করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।”

“মন্ত্রীরা কোন দূর্নীতি করে না। আমরা কখনও ১০ টাকারও করাপশান করি নাই। করবও না। তবে প্রতিমন্ত্রী কয়েকটা আছে দূর্নীতিবাজ। এটার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।”

কালের কন্ঠের এই লিংকে বিস্তারিত দেখুন।

এই মুহুর্তটা ২০১০ সাল না হয়ে যদি হত ১৯৭৫ সাল, আর এখনকার আওয়ামী লীগ শুধু কাজে না হয়ে যদি নামে ও কাজে দুভাবেই ৭৫-এর বাকশাল হত, তাহলে রমেশ চন্দ্র সেনের এসব কথা একটা মিডিয়াতে আসত না। কিন্তু যেহেতু ‘যদির কথা নদীতে’, অতএব ঐসব কথাবার্তার সবই মানুষ দুদিনের মধ্যেই জেনে যাবে। লুকোছাপার চেষ্টা হলে আরও আগে জানবে।

তারপর কী হতে পারে?

চলুন, কয়েকটা অ্যাজাম্পশান দাঁড় করাই।

প্রথম চোটেই রমেশ চন্দ্র সেনকে মানসিক ভাবে অসুস্থ ঘোষণা করা হতে পারে, যেমনটা জলিলের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল মঈনের সাথে হাসিনার যোগাযোগের কথা ফাঁস করে দেয়ার পর। অসুস্থতার প্রমাণ স্বরূপ মোদাসসের আলী রমেশ চন্দ্র সেনকে একটা সার্টিফিকেটও দিয়ে দিতে পারেন। মোদাসসের আলী কোন এরিয়ার স্পেশালিস্ট সেটা বড়ো কথা না, বড়ো কথা হচ্ছে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আর ব্যাক্তি শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক।

কিংবা, রমেশ চন্দ্র সেনকে একটা ছোট্ট দৌড়ানি দেয়া হতে পারে। এই দৌড়ানি দেয়ার দুই রকম মানেই হতে পারে, অর্থাৎ তাকে ক্যাবিনেট থেকে দৌড় করানো হতে পারে, আবার চিকিৎসার স্বার্থে ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরও দৌড় করানো হতে পারে। আর টিপাইমুখকে যেহেতু বাংলাদেশে উপকারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন, অতএব চিকিৎসা ঘরের কাছে চেন্নাই বা মুম্বাইতেও হতে পারে। মোট কথা দৌড়ানি দেয়া হবে, সেটা যেদিক পানেই হোক।

আমরা রমেশ চন্দ্র সেনের সদ্য প্রকাশিত অ্যালবামের সাফল্য কামনা করি। আর এখনও যেহেতু অ্যালবামের নাম দেয়া হয় নাই, তাই একজন অনুরাগী হিসেবে আমি একটি নাম প্রপোজ করতে পারি। তার এই অ্যালবামের নাম দেয়া হোক ‘গুমর ফাঁক’।অ্যালবামের ফুটনোট ‘আর্টিস্ট্স লাস্ট অ্যালবাম অফ লাইফ টাইম’ কথাটা লিখে দিলে বিক্রী আরও বেড়ে যাবে। কারণ আসলেই এটা হতে পারে আমাদের ক্যাবিনেট মিডিয়া ম্যাগনেট জগতের সোনার ডিম পাড়া হাস রমেশ চন্দ্র সেনের শেষ অ্যালবাম।

-

দিনকাল যা পড়েছে এবং সংবাদ মাধ্যমের উপর যে কুৎসিত নিয়ন্ত্রণের কথা রমেশ বাবুর স্বীকারোক্তিতে প্রকাশ পেল, তাতে করে আগামী কিছুদিনের মধ্যে যদি কালের কন্ঠের ঐ সাংবাদিকের মৃতদেহ তুরাগ নদীর পাড়ে বালির নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়, কিংবা যদি রিপোর্টটাই অনলাইন আর অফলাইন দুই লাইন থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটি বশত গায়েব হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে নীচের এই ইমেজ ভিউটি আপনাদের কাজে দেবে, পুরোটা দেখতে চাইলে ক্লিক করুন।

http://xanthis.files.wordpress.com/2010/05/kalker-kantho-report-on-ramesh-sens-confession-21-may-2010.png?w=107&h=282

Posted in আওয়ামী লীগ, উচ্ছৃংখলতা, চ্যানেল ওয়ান, ছাত্রলীগ, টিপাইমুখ, ঠাকুরগাঁও, তথ্য প্রমাণ, দলীয়করণ, দূর্নীতি, পানিসম্পদ মন্ত্রী, বাংলা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাকশাল, ভারত, মন্ত্রী, মন্ত্রীসভা, রাজনীতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, শেখ হাসিনা, স্বীকারোক্তি, Bangladesh | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , | 1 Comment »

 
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.